নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ‘গ্রেফতারের’ বিষয়ে যা জানা গেল
গত ১১ ফেব্রুয়ারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা সেনানিবাসে গ্রেফতার হয়েছেন- শীর্ষক একটি দাবি প্রচার করা হয়েছে।এতে উল্লেখ করা হয় ‘ব্রেকিং নিউজ এইমাত্র গ্রেফতার হলেন নাসীরউদ্দিন পাটোয়ারী ঢাকা সেনানিবাস থেকে গ্রেফতারের ভিডিও দেখুন লিংক কমেন্টে’।রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা সেনানিবাসে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে গ্রেফতারের দাবি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই ভুঁইফোড় ওয়েবসাইট এবং ব্লগস্পটের ফ্রি ডোমেইন সাইটে প্রকাশিত কথিত প্রতিবেদনের বরাতে ভুয়া এ দাবি প্রচার করা হয়েছে।এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ফেসবুকে উক্ত দাবিতে প্রচারিত কিছু পোস্ট পর্যবেক্ষণ করে সেগুলোতে তথ্যসূত্র হিসেবে একটি ব্লগপোস্টের লিংক খুঁজে পাওয়া যায়। রিউমর স্ক্যানারের বিশ্লেষণে ‘protibadnews76.blogspot.com’ নামে ব্লগস্পটের বিনামূল্যের ডোমেইনেউক্ত সাইটে প্রকাশিত তথাকথিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ‘রাজধানীতে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে এনসিপির এক নেতার বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানে এনসিপি নেতা নাসির উদ্দিনকে আটক করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, অভিযানের সময় বাসার ভেতরে রাখা একাধিক বস্তার মধ্যে প্রায় ৮ বস্তা ভর্তি নগদ টাকা পাওয়া যায়। উদ্ধার করা অর্থের উৎস ও বৈধতা যাচাইয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। র্যাব ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নাসির উদ্দিনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অর্থপাচারসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত নাসির উদ্দিন বা তার দলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশ্লেষকদের মতে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা আইনসঙ্গত নয়। আদালতের চূড়ান্ত রায়ের ওপরই বিষয়টির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।’ওই কথিত প্রতিবেদনে “এনসিপি নেতা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারির বাসায় মিললো ৪ বস্তা ভর্তি টাকা; শেষ রক্ষা আর হলো না” শিরোনামের একটি ছবিও দেখা যায়। কিন্তু, গত জানুয়ারিতেই একই তথ্য ভুয়া প্রমাণ করে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল রিউমর স্ক্যানার। প্রকৃতপক্ষে, কোনো বিশ্বস্ত সূত্র ছাড়াই এবং সম্পাদিত ছবি ব্যবহার করে তখনও এই দাবি প্রচার করা হয়েছিল।এছাড়া, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে গ্রেফতারের মতো ঘটনা ঘটলে উক্ত বিষয়ে দেশের গণমাধ্যমগুলোতে ঢালাওভাবে সংবাদ প্রচার হতো। কিন্তু, গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত কোনো সূত্রে এ বিষয়ে কোনো সংবাদ বা তথ্য পাওয়া যায়নি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে গ্রেফতারের ঘটনা কথিত এই সংবাদে ১১ ফেব্রুয়ারি প্রচার করা হয়। অনুসন্ধানে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ফেসবুক প্রোফাইলে ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ‘নির্বাচনি চাঁদরাতের বার্তা’ শিরোনামে একটি লাইভ ভিডিও ফুটেজ পাওয়া যায়। উক্ত ঘটনাস্থলে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার তথ্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ফ্রি ডোমেইনের ব্লগসাইট ব্যবহার করে অপতথ্য ছড়ানোর এই পদ্ধতি নিয়মিতই ব্যবহার হয়ে আসছে। রিউমর স্ক্যানারের ইনভেস্টিগেশন ইউনিট এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যাতে বেরিয়ে এসেছে এসব সাইটের পেছনে কারা আছেন, কারাই বা এসব সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন এবং কাদের এসব অপতথ্যের শিকার বানানো হচ্ছে।
সুতরাং, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা সেনানিবাসে গ্রেফতার হয়েছেন দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা
🎁 Your Special Offer is Loading...
Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.
⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Comments
Post a Comment